স্পোর্টস ডেস্ক: মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম দল হিসেবে সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে ফ্রান্স। অ্যাটলাস লায়নদের বিপক্ষে কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের গোলেই জয় নিশ্চিত করে দিদিয়ের দেশমের দল। একই সঙ্গে গোল্ডেন বুটের দৌড়েও লিওনেল মেসিকে টপকে আবার শীর্ষে উঠে গেছেন ফরাসি অধিনায়ক। ম্যাচে গোল করে চলতি আসরে নিজের গোলসংখ্যা ৮-এ উন্নীত করেন এমবাপ্পে, যা মেসির সমান। তবে ৩টি অ্যাসিস্ট থাকায় (মেসির ১টি) গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে এখন এগিয়ে রয়েছেন তিনি। বিশ্বকাপের গত ৬০ বছরের ইতিহাসে একই ম্যাচে গোল, অ্যাসিস্ট ও পেনাল্টি মিস করার ঘটনা ঘটেছে মাত্র চারবার। এর মধ্যে শেষ তিন দিনের ব্যবধানে এমন কীর্তি গড়েছেন দুই মহাতারকা—মিশরের বিপক্ষে লিওনেল মেসি এবং মরক্কোর বিপক্ষে কিলিয়ান এমবাপ্পে। প্রথমার্ধে পাওয়া পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি এমবাপ্পে। তার নেওয়া দুর্বল শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনো। এই সেভের মাধ্যমে ১৯৬৬ সালের পর (টাইব্রেকারসহ) বিশ্বকাপে যৌথভাবে সর্বোচ্চ চারটি পেনাল্টি ঠেকানোর রেকর্ড স্পর্শ করেন তিনি। ম্যাচে একটি গোলের পাশাপাশি একটি অ্যাসিস্টও করেন এমবাপ্পে। বিশ্বকাপে এটি তৃতীয়বারের মতো একই ম্যাচে গোল ও অ্যাসিস্ট করার কীর্তি তার। গত ছয় দশকে এর চেয়ে বেশি, পাঁচবার, এমন কৃতিত্ব দেখিয়েছেন কেবল লিওনেল মেসি। এই জয়ে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপের (২০১৮, ২০২২ ও ২০২৬) সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স। এর আগে জার্মানি এবং ব্রাজিলই কেবল টানা তিন বা তার বেশি বিশ্বকাপে শেষ চারে ওঠার কীর্তি গড়েছিল। এটি ফ্রান্সের ইতিহাসে অষ্টম বিশ্বকাপ সেমিফাইনাল। ব্রাজিলের সমান এই সংখ্যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তালিকার শীর্ষে রয়েছে ১২ সেমিফাইনাল খেলা জার্মানি। মরক্কোর বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের পঞ্চম গোলের দেখা পেয়েছেন উসমান দেম্বেলে। উল্লেখযোগ্য বিষয়, পাঁচটি গোলই এসেছে চলতি বিশ্বকাপে। আগের দুই আসর—২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে তিনি গোলের দেখা পাননি। বিশ্বকাপে আর্জেন্টাইন রেফারিদের পরিচালনায় এটি ফ্রান্সের ষষ্ঠ জয়, যা কোনো একটি দেশের রেফারির অধীনে একটি দলের সর্বোচ্চ জয়ের রেকর্ড। এমবাপ্পের ক্যারিয়ারে বিশ্বকাপে জয়সূচক গোলের সংখ্যা এখন ৮, যা ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ। এদিকে এমবাপে (৮) ও দেম্বেলে (৫) মিলে একই বিশ্বকাপে পাঁচ বা তার বেশি গোল করা সতীর্থ জুটির তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। ২০০২ সালে ব্রাজিলের রোনালদো (৮) ও রিভালদো (৫)-এর পর এই প্রথম এমন কীর্তি দেখা গেল। চলতি বিশ্বকাপে এমবাপ্পে, দেম্বেলে ও মাইকেল ওলিসে মিলে এখন পর্যন্ত ২৩টি গোলে সরাসরি অবদান রেখেছেন। ২০০২ সালে বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিলের রোনালদো, রিভালদো ও রোনালদিনহোর সম্মিলিত ২০ গোল-অবদানকেও ছাড়িয়ে গেছে এই ফরাসি ত্রয়ী। ১৯৬৬ সালের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে দুটি ভিন্ন বিশ্বকাপে ১০ বা তার বেশি গোলে অবদান রাখার নজিরও গড়েছেন এমবাপ্পে। ২০২২ সালে তার অবদান ছিল ১০টি, আর ২০২৬ বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১-তে। চলতি বিশ্বকাপে এমবাপের ১১টি গোল-অবদান (৮ গোল, ৩ অ্যাসিস্ট) ১৯৭০ সালে গার্ড মুলারের ১৩ গোল-অবদানের পর এক আসরে সর্বোচ্চ। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে গোল ও অ্যাসিস্ট মিলিয়ে এমবাপ্পের মোট অবদান এখন ১৪টি। গত ৬০ বছরে এই রেকর্ডে লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছেন তিনি। ফ্রান্সের জার্সিতে টানা ১৫টি পেনাল্টি সফলভাবে রূপান্তরের পর এবার প্রথমবার ব্যর্থ হলেন এমবাপ্পে। এর আগে সর্বশেষ ইউরো ২০২০-এ সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করেছিলেন তিনি। মরক্কোর আইয়ুব বুয়াদ্দি ১৮ বছর ২৮০ দিন বয়সে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা ইতিহাসের দ্বিতীয় কনিষ্ঠ ফুটবলার হয়েছেন। এই তালিকায় এখনও শীর্ষে আছেন ব্রাজিল কিংবদন্তি পেলে, যিনি ১৯৫৮ সালে ১৭ বছর ২৩৯ দিন বয়সে ওয়েলসের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল খেলেছিলেন। বিশ্বকাপে এমবাপ্পের মোট গোলসংখ্যা এখন ২০, যা ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তার সামনে রয়েছেন কেবল লিওনেল মেসি, যার গোলসংখ্যা ২১। দিদিয়ের দেশমের অধীনে এটি এমবাপ্পের ২০তম বিশ্বকাপ ম্যাচ, একই কোচের অধীনে কোনো খেলোয়াড়ের জন্য যা সর্বোচ্চ। বিশ্বকাপে ফ্রান্সের জয়ের সংখ্যা এখন ৪৫, যা ইতালির সঙ্গে যৌথভাবে চতুর্থ সর্বোচ্চ। এই তালিকায় শীর্ষে রয়েছে ব্রাজিল (৭৯), এরপর জার্মানি (৭০) ও আর্জেন্টিনা (৫২)। সবশেষে জাতীয় দলের জার্সিতেও নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন এমবাপ্পে। ফ্রান্সের হয়ে ১০০ বা তার বেশি গোলে সরাসরি অবদান রাখা প্রথম ফুটবলার এখন তিনি। এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে তার অবদান ১০১টি—৬৪ গোল ও ৩৭টি অ্যাসিস্ট।
গোলসংখ্যা সমান থাকলেও গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসিকে টপকে শীর্ষে এমবাপ্পে
0
Share.