সবার চোখের জল ফেলে নিঃশব্দে বিদায় নিল সাজিদ

0

ঢাকা অফিস: মায়ের সঙ্গে মাঠে গিয়ে গভীর গর্তে পড়ে যায় শিশুটি। এগিয়ে আসেন স্থানীয়রা। খবর দেওয়া হয় ফায়ার সার্ভিসকেও। গর্ত খুড়ে শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চলে ৩১ ঘণ্টাব্যাপী। গণমাধ্যমগুলো এ ঘটনার লাইভ দেখাতে থাকে। সারাদেশবাসী দৃষ্টি সেদিকে। কেউ বলতে থাকে ছেলেটি হয়তো বেঁচে নেই। কেউ আবার আশায় বুক বাঁধে হয়তো জীবিতও থাকতে পারে শিশুটি। কিন্তু না, ৩১ ঘণ্টার পর যখন শিশুটিকে উদ্ধারের পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন, তখন পুরো শোক যেন আচ্ছন্ন করে দেশবাসীকে। শুধু স্বজন নয়, পুরো দেশবাসীর হৃদয়েই যেন রক্তক্ষরণ হয়। রাজশাহীর তানোরে ভূগর্ভস্থ পানি তোলার জন্য তৈরি করা গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া শিশুটিকে ৩১ ঘণ্টা পর উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে শিশুটিকে উদ্ধার করার পর তানোর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন ও মেনটেইন্যান্স) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘রাত ৯টায় শিশুটিকে আমরা অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। তার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে চিকিৎসকরা জানাবেন।’ বুধবার বেলা ১টার দিকে তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে মায়ের সঙ্গে মাঠে গিয়ে গভীর গর্তে পড়ে যায় সাজিদ নামের দুই বছরের শিশুটি। সে কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামের মো. রাকিবুল ইসলামের ছেলে। স্থানীয় লোকজন জানান, তানোরের কোয়েলহাট গ্রামে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর অনেক নিচে নেমে গেছে। এ এলাকায় এখন গভীর নলকূপ বসানোর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা আছে। এরপরও ওই গ্রামের কছির উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি তার জমিতে পানির স্তর পাওয়া যায় কি না, সেটা যাচাই করার জন্য গর্তটি খনন করেছিলেন। সেই গর্ত ভরাটও করেছিলেন; কিন্তু বর্ষায় মাটি বসে গিয়ে নতুন করে গর্ত সৃষ্টি হয়। মায়ের সঙ্গে মাঠে গিয়ে শিশুটি সেই গর্তে পড়ে যায়। শিশুটিকে উদ্ধারে বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে অভিযান শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। একে একে যোগ দেয় ৮টি ইউনিট। মূল গর্তের পাশ কেটে শিশুটিকে উদ্ধারের জন্য এক্সকেভেটর (খননযন্ত্র) দিয়ে খননকাজ শুরু করা হয়। ৪৫ ফুট গভীর পর্যন্ত খনন করে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।

Share.