বিদ্যুৎ খাতে অনিয়মের রাজত্বের কথা জানালেন ড. ইফতেখারুজ্জামান

0

ঢাকা অফিস: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, বিদ্যুৎ খাতে চোরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেখান থেকে চট করে পরিবর্তন সম্ভব নয়। গতকাল বেলা ১১টায় ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবি কার্যালয়ে ‘বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন : সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। বিদ্যুৎ-জ্বালানি খাতের সংস্কারের বিষয়ে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের যে উদ্যোগ তার সঙ্গে একাকার করে দেখা উচিত হবে না। চাইলেই রাতারাতি অনেক প্রকল্প বাতিল করা সম্ভব নয়। আদানির বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি থেকে সরকার চাইলেও বের হতে পারবে না। বের হলে আন্তর্জাতিক আদালতে যেতে হতে পারে। সেখানে বাংলাদেশের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম।অনুষ্ঠানে গবেষণা প্রতিবেদন ও সুপারিশ তুলে ধরেন টিআইবির কো-অর্ডিনেটর (এনার্জি) নেওয়াজুল মওলা ও অ্যাসিসট্যান্ট কো-অর্ডিনেটর আশনা ইসলাম। ২০০৮ সাল থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সময় এ গবেষণার আওতাভুক্ত ছিল। এতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে বাংলাদেশে অনেক বেশি ব্যয়ের তথ্য উঠে এসেছে। এতে দেখা গেছে, ভারত-পাকিস্তানে ইউনিট প্রতি ৩ সেন্ট, চীনে ৪ সেন্ট খরচ পড়ছে। সেখানে বাংলাদেশের গড় উৎপাদনে খরচ হচ্ছে ১২ সেন্ট। আবার দেশের মধ্যেও সরকারি-বেসরকারি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্রের মধ্যে ব্যাপক তারতম্য রয়েছে। প্রকল্প ব্যয়ের ক্ষেত্রের অনেক দুর্নীতির তথ্য তুলে ধরা হয়েছে টিআইবির প্রতিবেদনে।বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী প্রতি মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গড় প্রকল্প ব্যয় হয় ৮ কোটি টাকার মতো। সেখানে ছয়টি বিদ্যুৎ প্রকল্পের ওপর গবেষণায় ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকার ওপরে ব্যয় দেখানো হয়েছে। ওই প্রকল্পগুলোতে প্রয়োজনের চেয়ে ২ হাজার ৯২৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছে টিআইবি।নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনায় বিভ্রান্তির তথ্য উঠে এসেছে টিআইবির গবেষণায়। এতে দেখা গেছে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫ এ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ২০৩০ সালে ২০ শতাংশ এবং ২০৪১ সালে ৩০ শতাংশ উৎপাদনের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে আইপিএমপিতে ২০৩০ সালে ১০ শতাংশ ২০৫০ সালে ৪০ শতাংশ, বিসিপিবি-২০২২ এ ২০৫০ সালে শতভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আবার এনডিসি, বাংলাদেশ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং ব-দ্বীপ পরিকল্পনা ভিন্ন রকম লক্ষ্যমাত্রার কথা বলা হয়েছে।প্রতিবেদনে বলা হয়, নবায়নযোগ্য জ্বালানি যেভাবে গুরুত্ব পাওয়ার কথা, সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। ৩১টি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের এলওআই বাতিল করা হলেও, ফসিল ফুয়েলের বাতিল হওয়া প্রকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। ফসিল ফুয়েলের মতোই সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পেও নানানরকম দুর্নীতি হয়েছে। প্রকল্পের চাহিদা অনুযায়ী পরিবেশের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এখানে পরিবেশের ক্ষতির বিষয়টি সেভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

Share.