হরমুজ দিয়ে ইরানের তেল রপ্তানি আগের মতোই রমরমা, বিপদে অন্যরা!

0

ডেস্ক রিপোর্ট: যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ইরান যে পরিমাণ তেল রপ্তানি করেছিল, এখনও কাছাকাছি পরিমাণ তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পাঠাচ্ছে। অর্থ্যাৎ হরমুজ দিয়ে ইরানের তেল রপ্তানি আগের মতোই রমরমা; তবে বিপদে পড়েছে অন্যরা! ইরান সফলভাবে অন্যদের তেলের জাহাজ আটকে দিতে পেরেছে এবং নিজেদের রপ্তানিও অব্যাহত রাখতে পেরেছে। দেশের অর্থনীতি এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার খরচ যোগাতে ইরানের জন্য তেল রপ্তানি গুরুত্বপূর্ণ। আর যুদ্ধ শুরুর আগে থেকেই কোটি কোটি ব্যারেল তেল নিয়ে সমুদ্রে বিক্রেতার জন্য অপেক্ষা করছিল ইরানি জাহাজ। সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন। সিএনএন বলছে, উপসাগরীয় অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের এক পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হলে ইরান হরমুজে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেয়। তাতে ওই পথ দিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর তেল ও গ্যাস রপ্তানি ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়। হরমুজ পার হতে গিয়ে এ পর্যন্ত অন্তত ১৬টি জাহাজ ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর কিছু হামলার দায় ইরান স্বীকার করেছে। সিএনএনের প্রতিবেদন বলছে, ট্যাংকার ট্র্যাকিং ডেটা এবং স্যাটেলাইট ছবি দেখাচ্ছে, যুদ্ধের মধ্যেও ইরানি তেলবাহী জাহাজ ওই প্রণালি দিয়ে গেছে, যদিও উপসাগরীয় অন্য দেশগুলোর অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাণিজ্যিক ডেটা বিশ্লেষণ সংস্থা কপ্লারের বিশেষজ্ঞদের অনুমান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে ইরান। আর মেরিন ইনটেলিজেন্স কোম্পানি ট্যাংকারট্র্যাকার্সের ধারণা, গত সপ্তাহের মাঝামাঝি পর্যন্ত ১ কোটি ৩৭ লাখ ব্যারেল তেল ইরান এই সময়ে হরমুজ দিয়ে পার করেছে। এই পরিসংখ্যান ঠিক হলে দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করছে ইরান। কপ্লারের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ইরানের দৈনিক গড় রপ্তানি ছিল ১৬.৯ লাখ ব্যারেল। সিএনএন লিখেছে, ইরানি ট্যাংকার আটকাতে যুক্তরাষ্ট্র কোনো কার্যকর চেষ্টা করছে বলে মনে হচ্ছে না, যদিও তারা ইরানের নৌবাহিনীর বড় অংশ ধ্বংস করার দাবি করেছে। ইরানের তেল অবকাঠামো যেমন শোধনাগার, পাইপলাইন ও রিজার্ভ ট্যাংকে হামলাও এড়িয়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইসরায়েলি হামলায় তেহরানসহ রাজধানীর আশেপাশের তেল মজুদের অবকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরানের তেলের বড় অংশ খার্ক দ্বীপের গভীর সমুদ্রবন্দর থেকে রপ্তানি করা হয়, যা ইরানি উপকূল থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে। শুক্রবার ওই দ্বীপে সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র তীব্র আক্রমণ চালালেও তেল অবকাঠামোতে কোনো আঘাত করা হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পরে সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত করতে থাকে, তাহলে তিনি খার্কের তেল অবকাঠামো এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের দূত মাইক ওয়াল্টজ সিএনএনকে বলেছেন, ট্রাম্প তার পরিকল্পনা থেকে কোনো বিকল্প বাদ দিচ্ছেন না। ‘আমি নিশ্চিত, তিনি যদি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করতে চান, তাহলে সেটা তিনি করবেন।’ মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সোমবার সিএনবিসিকে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে কিছু ইরানি, ভারতীয় ও চীনা জাহাজ চলাচল করছে, ওয়াশিংটন আপাতত তাতে বাধা দিচ্ছে না।

Share.