ডেস্ক রিপোর্ট: যেভাবে ইউক্রেন ও তার মিত্ররা রেড লাইন অতিক্রম করছে, তাতে যেকোনো সময় রাশিয়ার ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরভ। শনিবার (১৮ এপ্রিল) তুরস্কের আনতালিয়া ডিপ্লোমেসি ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। সতর্কবার্তা দিয়ে ল্যাভরভ বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো ইউক্রেনকে বড় ধরনের সংঘাতে ঠেলে দিচ্ছে এবং বারবার মস্কোর ‘লাল রেখা’ অতিক্রম করছে। তিনি বলেন, পশ্চিমাদের মধ্যে এমন ধারণা তৈরি হচ্ছে যে, রাশিয়া উসকানির জবাব দিতে অক্ষম বা অনিচ্ছুক। এ ধারণা ঠিক নয়। ইউক্রেন রাশিয়ার ভূখণ্ডে ড্রোন হামলার জন্য ন্যাটোর কয়েকটি দেশের আকাশসীমা ব্যবহার করছে, যা মস্কোর ‘লাল রেখা’ লঙ্ঘন। তিনি বলেন, “অনেকেই বলছে রাশিয়াকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কেউ কেউ আমাদের ‘কাগুজে বাঘ’ও বলতে পারে। কিন্তু আমি এমন তুলনা থেকে সতর্ক থাকতে বলবো।” তিনি আরও বলেন, “আমাদের জাতীয় চরিত্রে ধৈর্য একটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ। আমরা বলি, ‘ঈশ্বর সহ্য করেছেন, আমরাও সহ্য করবো। কিন্তু একসময় এই ধৈর্য শেষ হয়ে যাবে।” ল্যাভরভ জানান, মস্কো ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের ‘লাল রেখা’ স্পষ্ট করে নির্ধারণ করছে না, কারণ এই অনিশ্চয়তাই এক ধরনের প্রতিরোধমূলক কৌশল হিসেবে কাজ করে। তিনি বলেন, “আমি মনে করি, কেউ ঠিক কোথায় সেই লাল রেখা—তা না বোঝাই ভালো।” তিনি আরও যোগ করেন, রাশিয়ার প্রয়োজনে জবাব দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে, তবে তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি। ন্যাটো ও ইউক্রেন প্রসঙ্গ পশ্চিমা সামরিক সহায়তার প্রেক্ষাপটে ল্যাভরভ বলেন, বর্তমান সংকট একটি বৃহত্তর ঐতিহাসিক ধারার অংশ এবং ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্যরাই এর প্রধান চালিকাশক্তি। তিনি অভিযোগ করেন, পশ্চিমারা ইউক্রেনকে “বিশ্বব্যাপী হুমকির ট্রিগার” হিসেবে ব্যবহার করতে চায় এবং এই সংঘাতকে “রাশিয়ার বিরুদ্ধে বহু বছর ধরে প্রস্তুত করা যুদ্ধ” হিসেবে বর্ণনা করেন। তার মতে, ন্যাটো সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ইউক্রেনকে সংঘাত শুরুর আগেই রাশিয়ার জন্য শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। ন্যাটোর ভবিষ্যৎ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা ও ন্যাটো থেকে সরে যাওয়ার হুমকির মধ্যে ল্যাভরভ বলেন, ন্যাটো “ভালো অবস্থায় নেই”, তবে এটি বিলুপ্ত হবে বলে তিনি মনে করেন না। তিনি বলেন, “অভ্যন্তরীণ চাপ থাকা সত্ত্বেও এটি একটি আক্রমণাত্মক জোট হিসেবেই থাকবে।”
রাশিয়ার যেকোনো সময় ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যেতে পারে, ল্যাভরভের হুঁশিয়ারি
0
Share.