স্পোর্টস ডেস্ক: বিশ্বমঞ্চে মরক্কো মানেই আর কোনো ধুঁকতে থাকা দল নয় বরং ফুটবল বিশ্বের অন্যতম এক পরাশক্তি; বর্তমানে এমনটাই বিশ্বাস করেন দলটির সমর্থকরা। ২০২২ সালের বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্যভাবে সেমিফাইনালে খেলা মরক্কো এখন ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের সপ্তম স্থানে রয়েছে। চলমান ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে পরাশক্তি ব্রাজিলের বিপক্ষে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ১-১ ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল তাদের। তবে সেই আক্ষেপ ভুলে আজ শুক্রবার স্কটল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে উত্তর আফ্রিকার এই দেশটি। এই ম্যাচে জয় পেলেই নকআউট পর্বের রাস্তা অনেকটাই সহজ হয়ে যাবে আশরাফ হাকিমিদের জন্য, কারণ গ্রুপ পর্বে তাদের শেষ প্রতিপক্ষ তুলনামূলক দুর্বল দল হাইতি। স্কটল্যান্ড ম্যাচের আগের দিন বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন কমন পার্কে জড়ো হয়েছিলেন মরক্কোর শত শত সমর্থক। লাল ও সবুজ রঙের ধোঁয়া উড়িয়ে ড্রামের তালে তালে নেচে পুরো এলাকা উৎসবে ভাসান তারা। সমর্থকদের চোখে-মুখে এখন আত্মবিশ্বাসের ছোঁয়া। তাদের মতে, মরক্কোর ফুটবলের মান এখন এতটাই উঁচুতে যে পিএসজির ডিফেন্ডার আশরাফ হাকিমি কিংবা রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার ব্রাহিম দিয়াজের মতো তারকারা ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলো মাতাচ্ছেন। মন্ট্রিল থেকে দুই সন্তানকে নিয়ে বোস্টনে খেলা দেখতে আসা ৩৫ বছর বয়সী ওসামা খাতাম বলেন, একসময় বিশ্বকাপে সুযোগ পাওয়াটাই মরক্কোর জন্য অনেক বড় অর্জন ছিল। কিন্তু এখন জার্মানি, ফ্রান্স কিংবা স্পেনের মতো বড় দলগুলোর সাথে মরক্কোর আর কোনো তফাত নেই। এখন থেকে প্রতিটি বিশ্বকাপেই মরক্কোকে এই রূপে দেখা যাবে। মরক্কোর ফুটবলের এই নাটকীয় উত্থানের পেছনে প্রবাসী খেলোয়াড়দের অবদানের পাশাপাশি ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘মোহাম্মদ সিক্স ফুটবল একাডেমি’র বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মনে করেন সমর্থকরা। ১৯৯৮ সালের পর টানা ২০ বছর বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করতে না পেরে মরক্কোর ফুটবল যখন ধ্বংসের মুখে ঠিক তখন এই একাডেমি গড়ে তোলা হয়েছিল। এর সুফল হাতেনাতে পায় তারা ২০১৮ সালে বিশ্বকাপে ফিরে এসে এবং ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে বেলজিয়াম, স্পেন ও পর্তুগালকে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়ে। শুধু সিনিয়র দলই নয় গত বছর অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ জিতে মরক্কো প্রমাণ করেছে যে তাদের নতুন প্রজন্মের প্রতিভা উঠে আসার প্রক্রিয়া এখনো সচল। আর এই প্রতিভারা নিজেদের ঘরের মাঠে মেলে ধরার সুযোগ পাবে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে, যা যৌথভাবে আয়োজন করবে মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগাল। সমর্থকদের মতে, মরক্কো এখন কেবল নিজেদের জন্যই খেলছে না বরং আফ্রিকা মহাদেশসহ অনুন্নত বিশ্বের বাকি দেশগুলোর জন্য একটি রোল মডেল হয়ে উঠেছে। মরক্কো প্রমাণ করেছে যে সঠিক পরিকল্পনা থাকলে আফ্রিকার যেকোনো দেশই বিশ্বমঞ্চের শীর্ষ চারে জায়গা করে নিতে পারে। খেলা দেখতে মরক্কো থেকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রে আসা ৫২ বছর বয়সী মুসিন মুসলিহ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী। ২০২২ সালের মতো এবারও মরক্কো আরেকটি অবিশ্বাস্য বিশ্বকাপ উপহার দেবে, এমনটাই প্রত্যাশা কোটি ভক্তের।
বিশ্বমঞ্চের অভিজাতদের কাতারে মরক্কো
0
Share.