‘আর লকডাউন দরকার নেই, ভ্যাকসিন আসছে’

0

 ডেস্ক রিপোর্ট: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দৈনিক সংক্রমণের হার বৃদ্ধি সত্ত্বেও করোনা নিয়ন্ত্রণে রাখতে আর লকডাউন দরকার নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির শীর্ষ সরকারি বিশেষজ্ঞ অ্যান্টনি ফাউসি। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তিনি এ মন্তব্য করেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাউসি বলেন, আমি আশাবাদী যে শিগগিরই বিশ্ব একটি ভ্যাকসিন পাবে। যা মহামারির অবসান ঘটাবে। ভ্যাকসিনের প্রাথমিক পরীক্ষার ফলাফল উৎসাহব্যঞ্জক। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিসের পরিচালক ফাউসি আরো বলেন, ‘আমি মনে করি না, আমরা লকডাউনে ফিরে যাওয়ার বিষয়ে আর কথা বলব।’ স্কুলগুলো কখন আবার চালু করা উচিত? এ প্রশ্নের জবাবে এ বিশেষজ্ঞ দেশ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসায় স্থানীয়করণ পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়ার কথা বলেন। যেখানে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঘটনা নেই, সেখানে স্কুল খুলে দিতে কোনো সমস্যা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। যেসব অঞ্চলে সংক্রমণ এখনো চলছে, সেখানে অপেক্ষা করতে বলেছেন তিনি। কিছু এলাকায় বিকল্প কিছু পন্থা নেওয়া যেতে পারে। যেমন প্রতিদিন স্কুল খোলার পরিবর্তে এক দিন বাদে এক দিন স্কুল চালু করা, সকাল বা বিকেল শিফট করা, মাস্ক পরে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বসা প্রভৃতি নিয়ম মানা যেতে পারে।দেশের সীমান্ত কবে নাগাদ খোলা হতে পারে—এমন প্রশ্নে সতর্ক মন্তব্য করেছেন তিনি। ফাউসি বলেন, ‘স্পষ্টতই অন্যান্য দেশের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগের কিছুটা স্বাভাবিকতার ফিরে আসার আগ্রহ রয়েছে। প্রতিদিনই বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে, কিন্তু নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা যাচ্ছে না।’ফাউসি আরো বলেছেন, ‘করোনাভাইরাসের টিকার সঙ্গে এইচআইভির টিকার তুলনা করা যাবে না। করোনাভাইরাস টিকার বিষয়ে আমি আত্মবিশ্বাসী, কারণ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অধিকাংশ রোগী এ থেকে মুক্তি পেয়েছেন। তাদের ইমিউন সিস্টেম বা প্রতিরোধী ক্ষমতা ভাইরাসটিকে পরাস্ত করতে পেরেছে। এ থেকে বোঝা যায়, এটি দূর করা সম্ভব, প্রকৃতি সে প্রমাণ দেয়।’যেহেতু আক্রান্ত ব্যক্তিরা সেরে ওঠার পর তাদের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়, বিজ্ঞানীরা আত্মবিশ্বাসী যে এই অ্যান্টিবডি মানবসৃষ্ট অ্যান্টিজেন দ্বারাও তৈরি হতে পারে।ফাউসি মডার্নার তৈরি ভ্যাকসিন নিয়ে পশুর ওপর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথের প্রাথমিক গবেষণা সম্পর্কে তিনি সতর্ক আশাবাদ প্রকাশ করেন। মানব গবেষণাতেও প্রাথমিক ফলাফল এটি উত্সাহজনক ফল দেখিয়েছে। মডার্নার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের তৈরি ভ্যাকসিন সাময়িকভাবে এগিয়ে গেলেও এটি চূড়ান্তভাবে সফল হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ওষুধ নিয়ে ফাউসির বক্তব্য, যুক্তরাজ্যে স্টেরয়েড ডেক্সামেথাসনের পরীক্ষার ফলাফলে তিনি মুগ্ধ। ওষুধটি পরীক্ষায় ভেন্টিলেশনে থাকা কোভিড-১৯ রোগীদের মৃত্যু-ঝুঁকি এক–তৃতীয়াংশ কমাতে সক্ষম হয়েছে। তবে এ ওষুধ রোগীর সংক্রমণের পরপরই না দিতে পরামর্শ দেন যুক্তরাষ্ট্রের এ বিশেষজ্ঞ।বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মূলত করোনায় আক্রান্ত যেসব রোগীর ভেন্টিলেশন ও অক্সিজেনের প্রয়োজন, সেই রোগীদের জীবন বাঁচাতে ডেক্সামেথাসন অত্যন্ত কার্যকর বলে দেখা গেছে। এটা এক ধরনের স্টেরয়েড। তবে মৃদু উপসর্গযুক্ত রোগীদের জন্য এই ওষুধ ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। উল্লেখ্য যুক্তরাষ্ট্রে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা এখন ১ লাখ ২০ হাজার ৬৮৮ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২২ লাখ ৬৩ হাজার ৬৫১ জন।গেলো সপ্তাহেই আবারও শিগগিরই করোনা জয়ের প্রত্যয় জানিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সঙ্গে এও বলেছিলেন শনাক্তকরণ পরীক্ষা কমিয়ে দিলেই যুক্তরাষ্ট্রে করোনার সংক্রমণ কমে যাবে। লকডাউনের সময় বাড়ানো নিয়েও ছিলো ভিন্ন মত।করোনা ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও সামাজিক দূরত্বের তোয়াক্কা না করেই হাজার হাজার মানুষের বিচরণ যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের এক পার্কে। প্রায় সব শহরেই হয়েছে কৃষ্ণাঙ্গ হত্যার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। তাই দেশটিতে করোনার সংক্রমণ বাড়ার আশংকা করছেন বিশেষজ্ঞরা।এদিকে, করোনা ঠেকাতে ট্রাম্প ম্যালেরিয়ার যে ওষুধ খাচ্ছিলেন সেই হাইড্রক্সিক্লোরোকুইনের পরীক্ষামূলক ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। হৃদরোগে আক্রান্তদের জন্য এই ওষুধ ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানানো হয়। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে যেসব রোগীর শরীরে এ ওষুধ প্রয়োগ করা হয়েছে, তাদের মৃত্যুর হার তুলনামূলক বেশি বলেও জানা গেছে।

Share.