বিনোদন ডেস্ক: বাংলাদেশের টেলিভিশন নাট্যাঙ্গনের অন্যতম স্বনামধন্য পরিচালক ও প্রযোজক নাজনীন হাসান খান ১৬ বছর ক্যারিয়ারে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন। ছিলেন একজন গৃহিণী। সেখান থেকেই দীর্ঘ এই পথচলায় তিনি দর্শকদের উপহার দিয়েছেন অসংখ্য জনপ্রিয় নাটক ও টেলিফিল্ম। সম্প্রতি তিনি ৫০টি নাটক নির্মাণের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছেন, যা একজন নারী নির্মাতা হিসেবে তার একাগ্রতা ও নিষ্ঠার পরিচয় বহন করে। জীবনঘনিষ্ঠ গল্প ও স্বতন্ত্র নির্মাণশৈলীর জন্য পরিচিত এই নারী নির্মাতা সম্প্রতি একাধিক সম্মানজনক পুরস্কারে ভূষিত হওয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিচারক হিসেবেও গুরুদায়িত্ব পালন করছেন। একজন নির্মাতা হিসেবে তার সফলতা, সমসাময়িক কাজ ও ভবিষ্যত ভাবনা নিয়েই আজকের এই সাক্ষাৎকার। কেমন আছেন? আপনাদের দোয়ায় এবং আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক ভালোই আছি। নাটক নির্মাণের শুরুটা জানতে চাই… প্রথমে ‘তুমি রবে নীরবে’ নাটক রচনা দিয়ে ২০১০ সালে পথচলা শুরু। এরপর হচ্ছে হুমায়ূন আহমেদের সঙ্গে থেকে থেকে আমার নির্মাণের শিক্ষা শুরু। এককথায় বলতে গেলে হুমায়ূন আহমেদই হচ্ছেন আমার শিক্ষা গুরু। ওনার কারণেই আমার এতোদূর আসা। ইতোমধ্যে ৫০টির বেশি নাটক নির্মাণ করেছেন। কেমন লাগছে? সত্যি বলতে ৫০টি নাটক নির্মাণ করে ফেলেছি এটা মাঝে মাঝে ভাবলে নিজেই নিজেকে বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়ে যায়। গুটি গুটি পা পা করে যে এই পর্যন্ত চলে এসেছি তা সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। আপনার নির্মিত নাটকের গল্পে কী দেখাতেন চান দর্শকদের? আসলে আমার নাটকে সব সময় চেষ্টা থাকে বাস্তব জীবনের যে গল্প থাকে তাই দেখাই। আর আমার গল্পে একটু বেশি নারী কেন্দ্রীক গল্প হয়ে থাকে। কারণ আমিও একজন মেয়ে তাই আমি সবসময় চাই যে আমার গল্পে মেয়েরা প্রধান্য বেশি পাক। আর অবশ্যই গল্পে যেনো কোনো ভাড়ামি না রেখে একটা সুন্দর ম্যাসেজ রাখার চেষ্টা করি। এটাই আমি দেখাতে চাই আমার দর্শকদের গল্পের মাধ্যমে। বর্তমান সময়ের নাটক নিয়ে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই… বর্তমানে আসলে অনেক ভালো নাটকই হচ্ছে। আগে নাটকের একটা বাজেট সীমিত ছিলো, এখন তো তা আর নেই। বলতে গেলে সব কিছুই চেঞ্জ হয়েছে। ভালোর দিকে আছে নাটক। নাটকে পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রায়ই এক প্রকার হতাশা লক্ষ্য করা যায়। এটা নিয়ে কিছু বলুন… সত্যি কথা বলতে প্রত্যেকটা ক্ষেত্রেই হতাশা থাকে। কেই কিন্তু একদিনে সফলতা অর্জন করতে পারে না। দেখা গেছে যে আমি প্রথমে একটা কাজ করেছি, তারপর আরেকটা। এভাবেই কিন্তু আমার ১৬ বছরের ক্যারিয়ারে ৫০টি নাটক যোগ হয়েছে। তো আমি যদি প্রথমেই হতাশায় ভুগতাম তাহলে তো আজকে আমি এতোগুলো নাটক নির্মাণও করতে পারতাম না এবং এই জায়গায় আসতেও পারতাম না। যারা হতাশায় ভোগে তাদের জন্য আমার একটাই কথা থাকবে যে, তারা হতাশ না হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণায় চলতে হবে। মনে রাখতে হবে যে করেই হোক আমার লক্ষে পৌঁছোতেই হবে। তাহলেই হবে। সামনে নতুন কী আসতেছে আপনার কাজ? কাজ তো নিয়মিতই করছি। তবে নাটক নির্মাণের পাশাপাশি একটি মুভি নির্মাণের চিন্তাভাবনা আছে। সবকিছু যদি ঠিক থাকে তাহলে আগামী বছর সিনেমা নিমার্ণ শুরু করব।
‘গৃহিণী থেকেই নির্মাণে ১৬ বছর’
0
Share.