গ্রাহকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সেবা প্রদান করতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

0

ঢাকা অফিস: বিমা নিয়ে মানুষের আস্থা বাড়াতে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিগুলোকে তাগিদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, গ্রাহকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সেবা প্রদান করতে হবে। মানুষকে বীমার বিষয়ে আগ্রহী করতে নতুন নতুন পদ্ধতি কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে গ্রাহক যাতে হয়রানির শিকার না হন এবং কেউ যেন অসত্য তথ্য দিয়ে টাকা নিতে না পারেন সে বিষয়টিও খেয়াল রাখতে বলেন তিনি। মঙ্গলবার জাতীয় বিমা দিবস-২০২২’-উদযাপন উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে যুক্ত হন। বক্তব্যে বাংলাদেশেও উন্নত বিশ্বের মতো বিমা ব্যবস্থা চালুর আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, আমরাও চাই আমাদের দেশে উন্নত বিশ্বের মতো বিমা ব্যবস্থা চালু হোক। সরকার বেশ কয়েকটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির অনুমতি দিয়েছে-এগুলো আরও কার্যকর করতে হবে। আমরা স্বাস্থ্যবীমাও চালু করতে চাই। এজন্য কাজ শুরু করতে হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনী ওয়াদা অনুযায়ী আমরা সকলের জন্য সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছি। এতে সবার জীবনের নিশ্চিয়তা প্রদান সম্ভব হবে। বিমা নিয়ে মানুষের আস্থা বাড়াতে হবে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রাহকের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সেবা দিতে হবে। মানুষকে বিমার বিষয়ে আগ্রহী করতে নতুন নতুন পদ্ধতি কাজে লাগাতে হবে। জনগণকে উৎসাহী করতে আরও ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। বিমাসেবাকে জনপ্রিয় করাসহ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি বিমা কোম্পানিগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এসময় বিমা নিয়ে প্রতারণার ব্যাপারে কোম্পানিগুলো সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, অনেকেই ব্যবসা করতে গিয়ে বিমা করে। এরপরে ভুল বা অসত্য তথ্য দিয়ে কিংবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রিমিয়াম থেকে টাকা দাবি করে। আসলে হয়ত এই দাবি সঠিক নয়। এসব বিষয়ে আমাদের সর্তক হতে হবে। এসব পরীক্ষা করে তাদেরও ভালোভাবে শিক্ষা দিতে হবে। তারা যেন আবার অন্য কোনোভাবে ওই অল্প ক্ষতিকে বড় ক্ষতি করে না দেখায়। গ্রাহক যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেই বিষয়ে খেয়াল রাখার অনুরোধ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিমা মানে আমানত। তাই কেউ যেন তার প্রাপ্য চাইতে গিয়ে হয়রানির শিকার না হয়। বিমা নিয়ে নানা হয়রানি হয়-এসব বন্ধ করতে হবে। বিমা দাবি নিষ্পত্তি ও বিমার আর্থিক লেনদেনে আমাদের আরও সতর্ক হতে হবে জানিয়ে সরকার প্রধান বলেন, গ্রাহকেরা বিমার ক্ষেত্রে প্রিমিয়ামটা যাতে সঠিকভাবে দেন, সেটাও যেমন প্রয়োজন, আবার বিমার টাকাও যেন সঠিকভাবে পান, সেই বিষয়েও যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশগামী বাংলাদেশি কর্মীদের জন্য প্রবাসী কর্মী বিমা, বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি মোকাবেলায় হাওড় এলাকায় সীমিত পরিসরে আবহাওয়া সূচকভিত্তিক শস্য বিমা চালু করা হয়েছে। পদ্মা বহুমুখী সেতু, ঢাকা মেট্রোরেল, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের মতো মেগা প্রকল্পগুলোর বিমা ঝুঁকি সাধারণ বিমা করপোরেশন গ্রহণ করেছে। সরকারপ্রধান বলেন, শিক্ষার্থীদের পিতা-মাতা/অভিভাবকের অকাল মৃত্যুতে/শারীরিক অক্ষমতায় তাঁদের শিক্ষাজীবন যাতে ব্যাহত না হয় সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ‘বঙ্গবন্ধু শিক্ষা বিমা’ পরিকল্প চালু করা হয়েছে। সর্বসাধারণের দুর্ঘটনাজনিত ক্ষয়-ক্ষতি কমাতে সাধারণ বিমা করপোরেশন ‘বঙ্গবন্ধু সুরক্ষা বিমা’ চালু করেছে। বাংলাদেশ এখন ডিজিটাল। বিমা ব্যবস্থাকেও ডিজিটাইজ ও অটোমেশনের মধ্যে আনতে হবে এবং নতুন নতুন প্রযুক্তি বিমাখাতে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। জাতির পিতা বেঁচে থাকলে ৪০ বছর আগেই উন্নত দেশে পরিণত হতো বাংলাদেশ জানিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী মাত্র সাড়ে তিন বছরে তিনি বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা এনে দেন। তার সময়ে ৯ ভাগের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছিল।

 

Share.