চীনের বিরুদ্ধে অপহরণের অভিযোগ ভারতের

0

ডেস্ক রিপোর্ট: গেল সপ্তাহে সীমান্ত এলাকা থেকে চীনা সেনারা ৫ ভারতীয়কে অপরণ করেছে বলে অভিযোগ করেছে নয়াদিল্লি। দু’পক্ষের চলমান উত্তেজনা মধ্যে এ ঘটনা নতুন করে উত্তাপ ছড়াচ্ছে পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী দু’দেশের মধ্যে। ৫ সেপ্টেম্বর প্রথম টুইট বার্তায় চীনের বিরুদ্ধে ভারতের নাগরিকদের অপহরণের অভিযোগ করেন অরুণাচল প্রদেশের এক আইনপ্রণেতা। ভারতের এক মন্ত্রী জানিয়েছেন, হটলাইনে বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে চীনা সেনাবাহিনীকে জানানো হয়েছে। চীনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো মন্তব্য করা হয়নি। কিন্তু নতুন অভিযোগ দু’দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। রাজ্য আইনপ্রণেতা তাপির গাওয়া টুইটে ৩ সেপ্টেম্বর সীমান্তের কাছ থেকে ভারতীয়দের অপহরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেন। বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি। ভারতীয় কেন্দ্রীয়মন্ত্রী কিরেন রিজিজুকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ভারতীয় সেনাবাহিনী চীনা সেনাবাহিনীর কাছ থেকে উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে। প্রতিবেশী দু’দেশের মধ্যে অব্যাহত উত্তেজনার মধ্যে অপহরণের অভিযোগ উঠল।ভারতের অভিযোগ আগেস্ট এক সপ্তাহের মধ্যে চীনা সেনাবাহিনী দু’দফা সীমান্তে সামরিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি করেছে। নয়াদিল্লির এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে বেইজিং।  ৫ সেপ্টেম্বর মস্কোতে চীনা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। বৈঠকে অচলাবস্থা নিরসনের পরিবর্তে দু’পক্ষের মধ্যে বাগযুদ্ধ শুরু হয়। চীন জানিয়েছে, ভারতের ভুলের কারণে সীমান্তে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বেইজিং তার ভূমির এক ইঞ্চিও ছাড় দেবে না। ভারত অভিযোগ করেছে, চীন সীমান্তে ব্যাপকহারে সেনা সমাবেশ ঘটিয়েছে। আগ্রাসী আচরণের মাধ্যমে একতরফা স্থিতাবস্থা নষ্ট করছে। জুনের পর ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটলেও চীন, ভারত সীমান্তে বড় কোনো সহিংসতা হয়নি। বিশ্লেষকরা বতর্মান বেইজিং-নয়াদিল্লি সীমান্ত পরিস্থিতিকে শীতলাবস্থা বলে আখ্যা দিয়েছেন। জুনে দু’পক্ষের সেনাদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হয়। চীনের কতোজন সেনা হতাহত হয়েছে তা জানা যায়নি। উভয়পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে লাদাখ সীমানা অতিক্রম করে সংঘাত উস্কে দেয়ার অভিযোগ করে আসছে। সীমান্ত রেখা সঠিকভাবে চিহ্নিত না থাকায় সংঘাতের তৈরি হচ্ছে। সামরিক এবং কূটনৈতিক পর্যায়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে দু’পক্ষের। কিন্তু সীমান্ত সংকট নিরসনে ব্যর্থ হয়েছে তারা।

জুনে যা হয়েছিল: গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, খাড়া ভূখণ্ডের প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতায় দু’পক্ষের সেনাবাহিনী সংঘাতে জড়ায়। ভারতের বেশ কয়েকজন সেনা গালোয়ান নদীতে পরে যায়। ওই নদীর পানির তাপমাত্র ছিল শূন্যের নিচে। যাদের মধ্যে ২০ জন নিহত হয়। হতাহতের বিষয়ে চীন কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি। দু’পক্ষের সংঘাতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। ১৯৯৬ সালের চুক্তি অনুযায়ী ওই এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র, বিস্ফোরক ব্যবহার নিষিদ্ধ।

সেনা সংঘর্ষের কারণ: দু’দেশের মধ্যে বিতর্কিত সীমানা যা লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল নামে পরিচিত; খুবই দুর্বলভাবে চিহ্নিত। যেখানে নদী, হৃদ, তুষারপাতের উপস্থিতি থাকায় সীমানা পরিবর্তন হয়।  বিশ্বের শক্তিশালী দুটি সেনাবাহিনীর প্রতিনিধিত্ব করে ভারত এবং চীন। উভয় পক্ষ মুখোমুখি হয়েছে বেশ কয়েকবার। ভারতের অভিযোগ চীন লাদাখের গালওয়ান উপত্যকায় হাজার হাজার সেনা পাঠিয়েছে। দখল করে নিয়েছে তাদের ৩৮ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা। গেলো ৩ দশকে বহু বৈঠক হয়েছে দু’পক্ষের। সীমান্ত বিতর্ক নিয়ে কোনো সমাধান আসেনি। ১৯৬২ সালে চীন-ভারত একদফা যুদ্ধে জড়িয়েছিল। সেসময় ভারত বাজেভাবে চীনের কাছে পরাজিত হয়।সম্প্রতি চীন-ভারতের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার নানাবিধ কারণ রয়েছে। মূলে রয়েছে কৌশলগত প্রতিযোগিতা এবং উভয়ে একে অপরকে দোষারোপ করছে।লাদাখে ভারতের তৈরি নতুন রাস্তা; যা দিয়ে যে কোনো সময় সীমান্তে দ্রুত মানুষ এবং সরঞ্জাম পাঠাতে সক্ষম নয়াদিল্লি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ স্থাপনা নির্মাণ বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করেছে।

Share.