হত্যাচেষ্টার সতর্কবার্তা ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের, শুনে ইরানকে ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের

0

ডেস্ক রিপোর্ট: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তাকে হত্যার কোনো চেষ্টা করা হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ভয়াবহ সামরিক হামলা চালাবে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা ট্রাম্পকে হত্যার একটি কথিত পরিকল্পনা সম্পর্কে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করার পর তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের দিকে ‘এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাক করে রাখা হয়েছে’ এবং তাকে হত্যার চেষ্টা হলে আরও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাৎক্ষণিকভাবে হামলায় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত থাকবে। তিনি লেখেন, “ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্টকে হত্যার চেষ্টা করে বা এমন কোনো ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়, তাহলে ইরানের সব অঞ্চল সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেওয়ার জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনী প্রস্তুত। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ইতোমধ্যেই দেওয়া হয়েছে।”ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাতে ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রকে এমন নতুন গোয়েন্দা তথ্য দিয়েছে, যাতে ট্রাম্পকে হত্যার একটি ‘নির্দিষ্ট’ ও ‘সক্রিয়’ পরিকল্পনার ইঙ্গিত রয়েছে। এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, ওই গোয়েন্দা তথ্যের পর নিরাপত্তা ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস ন্যাটো সম্মেলন শেষে ট্রাম্পকে ভিন্ন একটি বিমানে ভ্রমণের পরামর্শ দেয়।প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল। তবে ইসরায়েলের দেওয়া নতুন তথ্যটি একটি নির্দিষ্ট ষড়যন্ত্রের বিষয়ে ছিল। এ কারণে ট্রাম্প তুরস্ক থেকে নতুন কাতার-উপহারপ্রাপ্ত বিমান ব্যবহার না করে পুরোনো একটি বিমানে ইংল্যান্ডে যান বলে সিএনএনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে গত মাসে হওয়া সমঝোতা স্মারকের (MoU) পরও দুই দেশের সম্পর্ক আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইরানের দাবি, মঙ্গলবার ও বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় দেশটির ছয়টি শহরে অন্তত ১৭ জন নিহত এবং ১১৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি-সংশ্লিষ্ট এক গুরুত্বপূর্ণ অর্থদাতা এবং আরও ১৩ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের শর্ত লঙ্ঘন করেছে। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত ইরান তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেছে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র তা করেনি।’ তার দাবি, সমঝোতার নবম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র নতুন নিষেধাজ্ঞা দেবে না এবং অঞ্চলে অতিরিক্ত সামরিক বাহিনী মোতায়েন করবে না। অথচ ওয়াশিংটনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই অঙ্গীকারের পরিপন্থী। আরাগচি বলেন, ভবিষ্যতে অগ্রগতি সম্ভব হবে পারস্পরিক প্রতিশ্রুতি পালনের মাধ্যমেই। উত্তেজনা বাড়লেও ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে একটি চূড়ান্ত শান্তি চুক্তির লক্ষ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।তিনি বলেন, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান আমাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চেয়েছে। আমরা তাতে সম্মত হয়েছি। তবে আমরা স্পষ্ট করে জানিয়েছি, যুদ্ধবিরতি শেষ।’ এর জবাবে ইরানের প্রধান আলোচক ও পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেন, ইরান কখনো আত্মসমর্পণ করবে না। তার ভাষায়, “আমরা সব সময় দেশ রক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছি। যুক্তরাষ্ট্র যদি সমঝোতা ভঙ্গ করে, তাহলে পূর্ণমাত্রার প্রতিরক্ষার জন্য আমরা প্রস্তুত।” তিনি আরও বলেন, “বিশ্ব যুদ্ধের অবসান চায়। তবে সবাইকে বুঝতে হবে, ইরানের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে এই সংঘাতের সমাপ্তি হবে না।” এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলে উভয় পক্ষকে সমঝোতা স্মারক মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। এ ছাড়া সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে বলা হয়েছে, ইরানের প্রতিনিধিরা হরমুজ প্রণালির কাছে তেলবাহী জাহাজে হামলার জন্য নিজেদের দেশের ‘উগ্রপন্থী একটি বিচ্ছিন্ন গোষ্ঠীকে’ দায়ী করেছেন। তাদের দাবি, ওই গোষ্ঠী কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ভণ্ডুল করার চেষ্টা করেছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা সিবিএসকে বলেন, “তারা আলোচনায় ফিরে এসে বলেছে, ‘আমাদের ভুল হয়েছে। আমরা আলোচনা চালিয়ে যেতে চাই।’”

Share.